শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্ক
Shahid Dr. Fazle Rabbi Park
কাচের দেয়ালের ভেতরে গুলশানের শব্দহীন সবুজ
গুলশান-১-এর ব্যস্ত রাস্তা আর নিকেতনের মাঝখানে প্রায় সাড়ে ছয় একরের পার্ক। রাস্তার দিকে স্বচ্ছ শব্দ-প্রতিরোধী দেয়াল, ভেতরে চক্কর দেওয়া হাঁটার পথ, ছোট্ট টিলা, বড় বড় গাছ, শিশুদের খেলার জায়গা আর বিনামূল্যে খাবার পানি।
পার্কটার নাম মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বির নামে। আগে এটা গুলশান সাউথ পার্ক নামে পরিচিত ছিল। দুই বছরের বেশি সংস্কারের পর ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ আবার খুলেছে; নকশা করেছে BUET-এর অধ্যাপক ড. নাজমুল ইমামের দল, দেখভাল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের।
সবচেয়ে চোখে পড়ে রাস্তার পাশের কাচের মতো স্বচ্ছ দেয়াল — গাড়ির শব্দ আর ধুলো আটকায়, অথচ বাতাস ঢোকে। পাখি যেন ধাক্কা না খায়, তাই দেয়ালের গায়ে দাগ টানা স্ট্রিপ। ভেতরে আছে কৃত্রিম বৃষ্টির স্প্রিংকলার, বৃষ্টির পানির জলাধার আর তার ওপর ব্রিজ।
আমরা অক্টোবর ২০২৬-এর এক দুপুরে নিকেতনের ভেতর দিয়ে রিকশায় এসে পুরো পার্ক হেঁটে দেখেছি। এক চক্কর দিতে লাগে প্রায় ৮ মিনিট। বের হয়ে গেটের পাশে ডাবের পানি — গরমের দুপুরে এর চেয়ে ভালো শেষ হয় না।
ভেতরে কী কী আছে
স্বচ্ছ শব্দ-প্রতিরোধী দেয়াল
রাস্তার দিকে কাচের মতো দেয়াল — শব্দ আর ধুলো আটকায়, বাতাস আটকায় না। গায়ের দাগগুলো পাখির নিরাপত্তার জন্য।
চক্কর দেওয়া হাঁটার পথ
পুরো পার্ক ঘিরে টাইলসের হাঁটার পথ, এক চক্কর প্রায় ৮ মিনিট। পথে ছোট্ট ব্রিজ আর দূরত্ব লেখা ফলক।

ব্যায়ামের যন্ত্র
খোলা জায়গায় কয়েকটা ব্যায়ামের যন্ত্র — সকালের হাঁটার সাথে একটু ব্যায়াম।
টিলা
সিঁড়ি বেয়ে ছোট্ট টিলার ওপরে উঠলে চারদিকে গুলশানের দালান আর মাঝে সবুজ। ওপরে বসার বেঞ্চ আছে।

শিশুদের খেলার জায়গা
ছাউনির নিচে দোলনা আর খেলার সরঞ্জাম — শুধু শিশুদের জন্য।

বিনামূল্যে খাবার পানি
সার্ভিস ব্লকে বিশুদ্ধ খাবার পানির কল (Project Trishna) — বোতল ভরে নেওয়া যায়।
মাঝখানের বড় গাছ
পার্কের মাঝখানে বিশাল পুরোনো গাছ, চারপাশে বসার জায়গা — দুপুরেও ছায়া।
কৃত্রিম বৃষ্টির স্প্রিংকলার
উঁচু খুঁটির মাথায় স্প্রিংকলার — ধুলো কমাতে ওপর থেকে পানি ছিটায়।

গেটের পাশে ডাব
বের হয়ে গেটের পাশে ডাবের পানি, পাশেই বাইক আর সাইকেল রাখার স্ট্যান্ড।
কীভাবে যাবেন
- রিকশা
নিকেতনের ভেতর দিয়ে → পার্কের নিকেতন-পাশের রাস্তা
⏱ প্রায় ৭ মিনিট (আমাদের)নিকেতনের গেট পেরিয়ে পার্কের পাশ দিয়ে গেট পর্যন্ত
- হাঁটা
গুলশান-১ সার্কেল → পার্কের গেট
গুলশান-১-এর বড় রাস্তার পাশেই পার্ক; ফুটপাতের পাশে বসার বেঞ্চও আছে
ভাড়া আনুমানিক — মৌসুম, ছুটি আর দরদামে বদলায়।
কখন যাবেন
- জানু
- ফেব্রু
- মার্চ
- এপ্রি
- মে
- জুন
- জুলা
- আগ
- সেপ্টে
- অক্টো
- নভে
- ডিসে
সাবধানতা
- স্প্রিংকলার চালু থাকলে একটু দূরে থাকুন — ফোন-ক্যামেরা ভিজে যেতে পারে।
- শিশুদের খেলার জায়গা শিশুদের জন্যই; বড়রা দোলনায় উঠবেন না।
- পার্কে ধূমপান, ফুল-পাতা ছেঁড়া আর ময়লা ফেলা নিষেধ — গেটের বোর্ডে নিয়ম লেখা আছে।
টিপস
- শান্তিতে হাঁটতে চাইলে সকালে আসুন; বিকেলে বেঞ্চ পাওয়া কঠিন।
- টিলার ওপর থেকে চারপাশের গুলশান সবচেয়ে সুন্দর দেখা যায় — বেঞ্চে বসে বিশ্রামও নেওয়া যায়।
- বিনামূল্যে খাবার পানির কল আছে, নিজের বোতল নিয়ে যান।
- বের হয়ে গেটের পাশে ডাব পাওয়া যায়।