দেবতাখুম
Debotakhum
পাহাড়ের দেয়ালের মাঝে সবুজ পানি আর বাঁশের ভেলা
রোয়াংছড়ির কচ্ছপতলী থেকে ঝিরিপথে ঘণ্টাখানেক হাঁটলে দুই খাড়া পাথরের দেয়ালের মাঝে গভীর, শান্ত পানির খুম। বান্দরবানের খুমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহজে যাওয়া যায় — ঢাকা থেকে এক দিনেই ঘুরে আসা সম্ভব।
‘খুম’ মানে পাহাড়ি খালের গভীর জলাধার। দেবতাখুমের দুই পাশে প্রায় খাড়া পাথরের দেয়াল, মাঝখানে কয়েকশো ফুট লম্বা সরু পানির পথ — জায়গাভেদে ৫০–৭০ ফুট গভীর। উঁচু দেয়ালের জন্য ভেতরে রোদ কম ঢোকে, তাই দুপুরেও ঠান্ডা।
নামের পেছনে স্থানীয় মারমাদের একটা গল্প আছে: এক বৃদ্ধ নাকি খুমে বিশাল এক কচ্ছপ দেখেছিলেন, আর ভেবেছিলেন কচ্ছপের রূপে দেবতা থাকেন এখানে। স্থানীয়রা একে সোনাখুম বা থংচিখুম নামেও ডাকেন।
আমরা ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ রাতের বাসে গিয়ে রাতের বাসে ফিরেছি — সকাল ১০টায় খুমে, বাঁশের ভেলায় দেড় ঘণ্টা, দুপুরে ফেরা। সকালে খুম প্রায় ফাঁকা ছিল, দুপুর ১২টার পর ঘাটে ভিড় জমে যায়।
এ পথের স্পট

কচ্ছপতলী বাজার
গাইড অফিস, আর্মি ক্যাম্প আর খাবারের হোটেল — ট্রেইলের শুরু এখান থেকেই।

ঝিরিপথ
খালের ভেতর দিয়ে সমতল পথ, দুই পাশে সবুজ পাহাড়; শেষে পাথরের বিশাল মাঠ।

ভেলার ঘাট
লাইফ জ্যাকেট আর বাঁশের ভেলা এখান থেকে নিতে হয়; দুপুরে সবচেয়ে ভিড়।

সরু গিরিপথ
খুমের সবচেয়ে ভেতরের অংশ — দেয়াল এত কাছে যে আকাশ দেখা যায় এক চিলতে।
আমাদের ক্যামেরায়

সিএনজিতে কচ্ছপতলী বাজার
ঝিরিপথ ধরে হাঁটা
দেবতাখুমে স্বাগতম
পান্নার মতো সবুজ পানি

ভেলার ঘাট
বাঁশের ভেলায় খুমের ভেতরে
খুমের সরু গিরিপথ

দুপুরে ঘাটে ভিড়
কীভাবে যাবেন
- বাস
ঢাকা → বান্দরবান
নন-এসি ৳৯০০ (আমাদের ২০২৪, হানিফ)⏱ রাতের বাস, ভোরে পৌঁছায়ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ বা কলাবাগান থেকে ছাড়ে
- CNG
বান্দরবান → রোয়াংছড়ি → কচ্ছপতলী বাজার
রিজার্ভ ৳৮০০ এক দিক (আমাদের ২০২৪, ৫ জন)বড় দলে চাঁদের গাড়ি নিলে মাথাপিছু খরচ কমে
- হাঁটা
কচ্ছপতলী → দেবতাখুম (খালের ঝিরিপথ)
⏱ প্রায় ১ ঘণ্টাগাইড সাথে নিয়ে; পানি বেশিরভাগ জায়গায় গোড়ালি সমান
- নৌকা
খুমের মুখ → ভেলার ঘাট → খুমের ভেতর
নৌকা, ভেলা আর লাইফ জ্যাকেট মিলিয়ে জনপ্রতি ~৳২০০ (আমাদের ২০২৪)⏱ ভেলায় ১–১.৫ ঘণ্টা
ভাড়া আনুমানিক — মৌসুম, ছুটি আর দরদামে বদলায়।
কখন যাবেন
- জানু
- ফেব্রু
- মার্চ
- এপ্রি
- মে
- জুন
- জুলা
- আগ
- সেপ্টে
- অক্টো
- নভে
- ডিসে
সাবধানতা
- ভেলায় আর পানিতে লাইফ জ্যাকেট পরে থাকুন — খুম গভীর, নিচে ধারালো পাথর।
- বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিতে প্রশাসন খুম বন্ধ রাখে। জুলাই ২০২৬-এ বন্যায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেবতাখুম বাকি বান্দরবানের পরেও বন্ধ ছিল — যাওয়ার আগে রোয়াংছড়ি উপজেলার সর্বশেষ নোটিশ দেখুন।
- খুমের ভেতরের ‘দেবতার পাথর’ স্থানীয়দের পবিত্র জায়গা — ওপরে উঠবেন না, আশেপাশে লাফালাফি করবেন না।
- খুম এলাকায় রাতে থাকা বা ক্যাম্পিং নিষেধ; সূর্যাস্তের আগে কচ্ছপতলী ফিরুন।
টিপস
- সকাল ৯টার মধ্যে কচ্ছপতলী পৌঁছালে ভিড়ের আগেই ভেলায় উঠতে পারবেন।
- যাওয়ার সময়ই কচ্ছপতলীতে দুপুরের খাবার অর্ডার দিয়ে যান — খুমের দিকে কোনো দোকান নেই।
- NID বা জন্ম নিবন্ধনের ২ কপি ফটোকপি, ড্রাই ব্যাগ আর গ্রিপওয়ালা স্যান্ডেল নিন।
- প্লাস্টিক বা খাবারের প্যাকেট ফেলে আসবেন না — নিজের ময়লা নিজে ফেরত আনুন।
