
সিলেট বর্ডার হাইকিং
৳৫,৫০০-তে ৩ দিনে সাদাপাথর থেকে আগুন পাহাড়
যাত্রা
DAC
ঢাকা
গন্তব্য
SYL
সিলেট
- ভাড়া / জন
- ৳৫,৫০০
- দিন
- ৩/২
- ক্রু
- ৪ জন
- সেরা সময়
- জুন, জুলা, আগ, সেপ্টে
- কাঠিন্য
- মাঝারি
- তারিখ
- জুল ২০২৬
গাড়িতে বসে নয়, ভারত সীমান্ত ঘেঁষে পায়ে হেঁটে — একের পর এক ছড়া, ঝর্ণা আর বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে। চার বন্ধু, বর্ষার সিলেট, আর জনপ্রতি মাত্র ৫,৫০০ টাকা।
স্টোরি মোড
স্ক্রল করুন, আমাদের সাথে হাঁটুন
দিন ১ · ১/১৮
ঢাকা
আনুমানিক অবস্থান — নেভিগেশনের জন্য নয়, ধারণার জন্য।
দিন ১
সাদাপাথর থেকে বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে বিছানাকান্দি
ঢাকা → সিলেট → সাদাপাথর → উৎমাছড়া → তুরুংছড়া → বিছানাকান্দি
রাতের স্লিপার বাসে সিলেট
আরামবাগ থেকে Paradise স্লিপারে রাতের যাত্রা। সকালে সিলেট নেমে CNG-তে আম্বরখানা, সেখান থেকে লোকাল বাসে সাদাপাথর।
টিপ: স্লিপার বাস আগে থেকেই বুক করুন — বৃহস্পতিবার রাতে সিট পাওয়া কঠিন।
ভিডিওতে দেখুন · 0:34সাদাপাথর — ঠান্ডা পাহাড়ি স্রোত
বাজার থেকে নৌকায় মূল স্পট। ৮০০ টাকার নৌকা আরেকটা গ্রুপের সাথে ৮ জনে ভাগ করায় জনপ্রতি মাত্র ১০০ টাকা পড়েছে।
টিপ: সময় বাঁচাতে মূল স্পটের কাছেই দুপুরের খাবার সেরে নিন।
ভিডিওতে দেখুন · 1:19জায়গাটা সম্পর্কে →উৎমাছড়া — পাথরের নদী
দুপুরের পর CNG রিজার্ভ করে উৎমাছড়া। চারপাশে মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়, নিচে বড় বড় পাথরের উপর দিয়ে স্বচ্ছ পানি।
ভিডিওতে দেখুন · 2:26জায়গাটা সম্পর্কে →হাইক আর ভাঙা বাঁশের সাঁকো
উৎমাছড়া থেকে তুরুংছড়া পর্যন্ত ধানক্ষেত, নদী পারাপার আর একের পর এক নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো — এই ট্রিপের সবচেয়ে মজার অংশ।
টিপ: হাঁটতে ~৪০ মিনিট লাগে — সন্ধ্যার আগে পৌঁছানোর প্ল্যান করুন।
ভিডিওতে দেখুন · 2:42তুরুংছড়া
জঙ্গলের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা ছোট্ট পাথুরে ছড়া। ভিড় নেই, শুধু পানির শব্দ।
ভিডিওতে দেখুন · 3:31জায়গাটা সম্পর্কে →কাদা রাস্তায় মোটরসাইকেলে বিছানাকান্দি
অন্ধকারে অচেনা ট্রেইলে না হেঁটে দুটো মোটরসাইকেল নিই। রাস্তা ভয়ংকর কাদা! রাতে জলপরী আবাসিকে থাকা — ২,০০০ টাকার রুম, ৪ জনে ভাগ।
ভিডিওতে দেখুন · 3:52জায়গাটা সম্পর্কে →দিন ২
বৃষ্টির বিছানাকান্দি থেকে বর্ডার ট্রেইল ধরে জাফলং
বিছানাকান্দি → কুলুমছড়া → লক্ষণছড়া → পান্থুমাই → খাসিয়া পল্লী → জাফলং
বৃষ্টিভেজা বিছানাকান্দি
সকালে মুষলধারে বৃষ্টি। মেঘে ঢাকা পাহাড় আর নৌকায় নদী পার হয়ে হাইকিং শুরু।
ভিডিওতে দেখুন · 4:07জায়গাটা সম্পর্কে →কুলুমছড়া — যেখানে BGB থামিয়ে দিল
বর্ডার ট্রেইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে অজান্তেই সীমান্তের খুব কাছে চলে গিয়েছিলাম। BGB সদস্যরা ভদ্রভাবে থামিয়ে ফিরিয়ে দেন।
টিপ: নো ম্যানস ল্যান্ডের দিকে কখনো যাবেন না। সবসময় BGB ও স্থানীয়দের কথা মানুন।
ভিডিওতে দেখুন · 5:05জায়গাটা সম্পর্কে →লক্ষণছড়ায় গোসল
হাঁটার ক্লান্তি এক ডুবে উধাও। স্রোত বেশ জোরালো, তাই কিনারার কাছেই থাকুন।
ভিডিওতে দেখুন · 5:53জায়গাটা সম্পর্কে →পান্থুমাই ঝর্ণা
ভারতের পাহাড় থেকে নেমে আসা বিশাল ঝর্ণা, বাংলাদেশ থেকে দূর থেকে দেখা যায়। বর্ষায় এর রূপ সবচেয়ে ভয়ংকর সুন্দর।
ভিডিওতে দেখুন · 6:48জায়গাটা সম্পর্কে →খাসিয়া পল্লী ও চা বাগান
ক্লান্ত পায়ে অটো আর ভ্যানে খাসিয়া পল্লী। চা বাগানের ভেতর দিয়ে হেঁটে সন্ধ্যায় জাফলং।
ভিডিওতে দেখুন · 7:50জায়গাটা সম্পর্কে →জাফলংয়ের রাত
মামার বাজারে হোটেল — দুইটা রুম, তিনটা বেড, ১,৮০০ টাকা। রাতে নদীর ওপারে ডাউকি শহরের আলো।
ভিডিওতে দেখুন · 8:13জায়গাটা সম্পর্কে →দিন ৩
জিরো পয়েন্ট, মায়াবী ঝর্ণা, শেষ বাড়ি আর আগুন পাহাড়
জাফলং → মায়াবী ঝর্ণা → তামাবিল → শেষ বাড়ি → জৈন্তাপুর → আগুন পাহাড় → সিলেট → ঢাকা
জিরো পয়েন্টে ঝুম বৃষ্টিতে নৌকার ছাদে
জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে নৌকায় মায়াবী ঝর্ণার দিকে — মাঝপথে নামল ঝুম বৃষ্টি, আর আমরা নৌকার ছাদে।
ভিডিওতে দেখুন · 8:26জায়গাটা সম্পর্কে →মায়াবী ঝর্ণা
পাথরের ধাপে ধাপে নেমে আসা ঝর্ণা। পাথর খুব পিচ্ছিল — গ্রিপওয়ালা স্যান্ডেল ছাড়া উপরে উঠবেন না।
ভিডিওতে দেখুন · 9:33জায়গাটা সম্পর্কে →তামাবিল বর্ডার
বাংলাদেশ-ভারতের স্থলবন্দর। ১২৭৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের পাশে ছবি — এখান থেকেই মেঘালয়ের রাস্তা শুরু।
ভিডিওতে দেখুন · 10:32জায়গাটা সম্পর্কে →বাংলাদেশের শেষ বাড়ি
সীমান্তের একদম গা ঘেঁষে একটা ছাউনি — এর পরেই ভারত। সামনে সবুজ জলাভূমি আর পাহাড়।
ভিডিওতে দেখুন · 11:05জায়গাটা সম্পর্কে →জৈন্তাপুর হিল
টিলার উপর বসে ওপারের পাহাড় থেকে নামা ঝর্ণা দেখা — পুরো ট্রিপের সবচেয়ে শান্ত মুহূর্ত।
ভিডিওতে দেখুন · 11:22জায়গাটা সম্পর্কে →আগুন পাহাড় (হরিপুর)
মাটি ফুঁড়ে বের হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাস — পানিতে দেশলাই ধরালে জ্বলে ওঠে আগুন! তারপর বাসে সিলেট, রাতের স্লিপারে ঢাকা।
টিপ: আগুন নিয়ে খেলবেন না — দূর থেকে দেখুন, শিশুদের কাছে যেতে দেবেন না।
ভিডিওতে দেখুন · 11:46জায়গাটা সম্পর্কে →যা ভুল হয়েছিল
আমাদের ভুল, আপনার শিক্ষা
#১
অন্ধকারে কাদার রাস্তায় বাইক
তুরুংছড়া থেকে বের হতেই অন্ধকার নেমে এলো। অচেনা ট্রেইলে রাতে হাঁটার ঝুঁকি না নিয়ে কাদা-পিচ্ছিল রাস্তায় দুটো বাইকে বিছানাকান্দি — বাইকার ভাইরাও ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
শিক্ষা: প্রথম দিনে হাতে সময় রাখুন — সন্ধ্যার আগেই তুরুংছড়া ছাড়ুন।
#২
BGB আমাদের থামিয়ে দিল
কুলুমছড়ার ট্রেইলে হাঁটতে হাঁটতে বুঝিইনি কখন সীমান্তের এত কাছে চলে এসেছি। BGB সদস্যরা ভদ্রভাবে থামিয়ে ফিরিয়ে দিলেন।
শিক্ষা: বর্ডার ট্রেইলে স্থানীয় কাউকে সাথে নিন, পিলারের দিকে যাবেন না।
#৩
পান্থুমাইয়ে পা আর চলছিল না
বৃষ্টিভেজা পথে টানা হাঁটার পর পান্থুমাই পৌঁছে পায়ের অবস্থা খারাপ, সময়ও কম। খাসিয়া পল্লী পর্যন্ত বাকি পথ হাঁটার প্ল্যান বাদ দিয়ে অটো আর ভ্যান নিতে হলো।
শিক্ষা: দ্বিতীয় দিনে ব্যাকআপ হিসেবে অটো/ভ্যানের ভাড়া রেখে দিন।
#৪
নৌকার ছাদে ঝুম বৃষ্টি
জিরো পয়েন্ট থেকে মায়াবী ঝর্ণা যাওয়ার পথে হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি। ক্যামেরা-ফোন ভিজে যাওয়ার জোগাড় — মজাও হয়েছে, ভয়ও লেগেছে।
শিক্ষা: ড্রাই ব্যাগ আর ফোনের ওয়াটারপ্রুফ পাউচ বাধ্যতামূলক।
Fly The Sky
খরচের রসিদ
জনপ্রতি, আমাদের ৪ জনের গ্রুপে যা খরচ হয়েছে।
- ঢাকা → সিলেট স্লিপার বাস৳১,৪০০
- আম্বরখানা → সাদাপাথর লোকাল বাস৳৮০
- সাদাপাথর নৌকা৳৮০০ ÷ ৮ জন৳১০০
- সাদাপাথরে দুপুরের খাবার৳২৫০
- সাদাপাথর → উৎমাছড়া CNG৳৮০০ ÷ ৪ জন৳২০০
- বিছানাকান্দি হোটেল (জলপরী আবাসিক)৳২,০০০ ÷ ৪ জন৳৫০০
- বিছানাকান্দিতে নাস্তা৳৮০
- জাফলং হোটেল (মামার বাজার)৳১,৮০০ ÷ ৪ জন৳৪৫০
- জাফলংয়ে রাতের খাবার৳২৭৮
- জাফলংয়ে দুপুরের খাবার৳৩০০
- সিলেট → ঢাকা স্লিপার বাস৳১,৩০০
- অন্যান্য লোকাল যাতায়াত ও খাবারমোটরসাইকেল, অটো, ভ্যান, নৌকা, চা-নাস্তা৳৫৬২
কাজের টিপস
- জুন–সেপ্টেম্বর বর্ষায় ঝর্ণাগুলো পূর্ণ রূপে থাকে, কিন্তু ট্রেইল কাদা ও পিচ্ছিল — গ্রিপওয়ালা স্যান্ডেল নিন।
- নৌকা ও CNG অন্য গ্রুপের সাথে শেয়ার করলে খরচ অর্ধেকে নেমে আসে।
- মোবাইল ব্যাগ ও ড্রাই ব্যাগ রাখুন — প্রায় প্রতিটা স্পটে পানি পার হতে হয়।
- সন্ধ্যার পর অচেনা ট্রেইলে না হেঁটে লোকাল বাইক বা অটো নিন।
- নগদ টাকা রাখুন — বর্ডার এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিকাশ এজেন্ট কম।
সেফটি ও নিয়ম
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সাথে রাখুন — বর্ডার এলাকায় চাওয়া হতে পারে।
- সীমান্ত পিলার ও নো ম্যানস ল্যান্ডের দিকে যাবেন না; BGB-র নির্দেশ মানুন।
- সাঁতার না জানলে স্রোতে নামবেন না; বর্ষায় ছড়ার পানি হঠাৎ বাড়তে পারে।
- সূর্যাস্তের আগে বর্ডার এলাকা ছাড়ুন।
- পাহাড়ি ঢলের সতর্কতা থাকলে ঝর্ণার কাছে যাবেন না।